Grihokormi

Category

  • Awareness/জন সচেতনতা

Artist

Composer

Lyricist

Rating

  • Total Reviews: 0

Released At

  • June 16,2016

Audio Song


Grihokormi




আমাদের দেশে সাধারণত গৃহকর্মীদের ‘বুয়া’  বলে ডাকা হয়। ‘বুয়া’ একটি হিন্দি শব্দ যার অর্থ ফুপু। কিন্তু অধিকাংশ সময় এই ‘বুয়া’ডাকের মধ্য দিয়ে গৃহকর্মীর প্রতি তাচ্ছিল্য বা অবজ্ঞার ভাব প্রকাশ পায়। গৃহকর্মীর প্রতি অনেক গৃহকর্তা-গৃহকর্তীই সদয় নন। প্রায়ই মালিকের বাড়ির লোকজনের কাজ থেকে গৃহকর্মীকে নির্যাতন সহ্য করতে হয়।

জীবিকার তাগিদে অন্যের ঘরে কাজ করলেও গৃহকর্মীরাও মানুষ হিসেবে সম্মান পাওয়ার যোগ্য। যে বাড়িতে তিনি কাজ করেন, সেখানে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞা জুটলেও, নিজের বাড়িতে তার সম্মানজনক অবস্থান আছে। তিনি কারো না কারো মেয়ে। গরীব হোন বা দেখতে অসুন্দরই হোন, মেয়ে হিসেবে বাবার কাছ থেকে আদর-ভালোবাসা পান তিনি। একইভাবে তারও হয়তো নিজের ভাই আছে। সেই ভাইয়ের কাছ থেকে তিনি পান স্নেহ ও আদর।

আবার হয়তো গৃহকর্মীর নিজের সংসার আছে, স্বামী আছে। হয়তো আছে তার সন্তানও। সংসারের খরচ জোগাতে পরের বাড়িতে কাজ করলেও নিজের ঘরে স্বামী-সন্তানের কাছে তার মূল্য অনেক। সুতরাং বুয়া বলে তাকে তুচ্ছ বা অবহেলা করা ঠিক নয়।

মালিকের ঘরে গৃহকর্মীকে অনেক ধরনের কাজ করতে হয়। তিনি রান্না-বাড়া, কাপড়-চোপড় ধোঁয়া, ঘর মোছা, ঝাড়– দেওয়া ইত্যাদি কাজ করে থাকেন। এগুলোকে অনেকে ছোট কাজ বলে মনে করেন। অথচ এসব কাজ ঠিকমতো না হলে তাদের জীবন চলে না। বজায় থাকে না ঘরের সৌন্দর্য ও আভিজাত্য। কিন্তু যিনি অক্লান্ত পরিশ্রমে অন্যের ঘর সুন্দর রাখার চেষ্টা করে যান, তাকে প্রায়ই সইতে হয় নানা গঞ্জনা।

একজন গৃহকর্মী তার মালিকের ঘরের সবার নির্দেশ পালন করেন। তবুও তার একটু ভুল হলে বা কোনো জিনিস ভেঙে ফেললে অনেকেই রেগে যান। গৃহকর্মী নির্যাতনের কথা প্রায়ই শোনা যায়। বিশেষ করে সামান্য ভুলের সূত্র ধরে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন করেন অনেকেই।

কিন্তু তারা ভুলে যান যে তাদেরও ভুল হয়। তাদের হাত থেকে পড়ে ভাঙে ঘরের জিনিসপত্র। নিজে ভাঙলে কিছু নয়, কিন্তু গৃহকর্মী কিছু ভাঙলেই তার ওপর নেমে আসে নির্যাতন। মালিকের ঘরের কারও অসাবধানতার ফলে কোনো জিনিস ভাঙলে তাকে কেউ এজন্য দোষী করেন না বা অলুক্ষুণে বলে অপবাদও দেন না। অথচ গৃহকর্মীর বেলায় ঘটে ঠিক তার বিপরীত।

অন্যের ঘরে কাজ করলেও গৃহকর্মীরাও এই দেশেরই নাগরিক, এই দেশেরই মানুষ। একজন নাগরিক হিসেবে মালিকের মতো তারও আছে কিছু মৌলিক বিষয় উপভোগের অধিকার। নির্বাচনের সময় মালিকের ভোটের যে মূল্য, গৃহকর্মীর ভোটেরও সেই একই মূল্য। হয়তো ভাগ্যগুণে মালিক আজ অনেক ধনী। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে গৃহকর্মী অনেক গরীব।

গরীব হওয়াটা গৃহকর্মীর অপরাধ নয়। আজ সহায়-সম্বলহীন ও অনাথ ভেবে যারা গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে, তারা মানুষ নামের যোগ্য নয়। তারা নির্লজ হিংস্র পশুর মতো। শিক্ষিত বা ধনী হলেও তাদের মনুষত্ব্যের বিকাশ হয় নি।

সৃষ্টিকর্তার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। আর মানুষ হিসেবে একজন যদি অন্যকে সম্মান দিতে না পারি, তবে যে কাজই করুন না কেন; যত বড়ই হোন না কেন; তাতে গৌরব নেই। গৃহকর্তার কাছ থেকে একটু ভালো ব্যবহার পেলে গৃহকর্মী তার কাজে আরও উৎসাহ পান। সুতরাং যখন গৃহকর্মীসহ সব মানুষকে সম্মান করবো, তখনই আমরা সত্যিকারের সভ্য হয়েছি বলে দাবি করতে পারবো।

তবে আশার কথা হলো সমাজে পরিবর্তন আসছে। মানুষ এখন যে-কোনো সম্মানজনক পেশা বা কাজকে মূল্যায়ণ করতে শিখছে। কাজের মধ্যে ছোট-বড় বলে কিছু নেই, এই উপলব্ধি বাড়ছে। শুধু গৃহকর্মীদের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেরাও ঘরের কাজ করতে কুণ্ঠাবোধ করছে না।

অন্যের ঘরে কাজ করলেও মানুষ হিসেবে গৃহকর্মীদের আছে যোগ্য সম্মান পাওয়ার অধিকার। গৃহকর্মীদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজন সবারই সচেতন হওয়া, এগিয়ে আসা। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ প্রয়োজন। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় যেদিন গৃহকর্মীদের আর ‘বুয়া’ বলে অবজ্ঞা করা হবে না। তাদের দেওয়া হবে যোগ্য সম্মান।