Aduri (Ador Kore Nam Rekheche)

Category

  • Reality/বাস্তবতা

Lyricist

Rating

  • Total Reviews: 0

Released At

  • April 12,2016

Audio Song


Ring tone (30 Sec)


Aduri (Ador Kore Nam Rekheche)


Video Song


             RingTone Code

Song Title Aduri
Album Name Khalid Sangeet -1
Gp/Airtel/Teletalk/Robi 5307269
Banglalink 59114196
 
For GP : wt space songcode send 4000
For Airtel : ct space songcode send 3123
For Teletalk : tt space songcode send 5000
For Robi : get space songcode send 8466
For Banglalink: down songcode send 2222

আদুরী। মা-বাবার অনেক আদরের মেয়ে। খুব আদর করে মা তার নাম রেখেছেন আদুরী। আর দশটা শিশুর মতো পরিবারের অকৃত্রিম স্নেহে মানুষ হচ্ছিল সে। কিন্তু বাধ সাধে দারিদ্র। পটুয়াখালী জেলার প্রত্যন্ত শেহেকাঠি গ্রামের ছোট্ট মেয়েটি ঢাকায় আসে একটু সুখের খোঁজে। কিন্তু ঢাকার চকচকে আলো এক সময় মরিচিকা হয়েই দেখা দেয়। এক মুঠো ভাতের স্বপ্ন অচিরেই মিলিয়ে যায় কঠিন বাস্তবতা আর মানুষরূপী অমানুষের নির্মম অত্যাচারে।
 
চলুন একবার ফিরে তাকাই। ২০০২ সালে কোনো একদিন মা সাফিয়া বেগমের কোলজুড়ে আসে দশম সন্তান। অনেক সন্তান হলেও নতুন অতিথির প্রতি মা-বাবার আদরের কমতি ছিল না। আসলে, পিতা-মাতার আদর কখনো কমে না। সাধারণত কোনো পরিবারে সর্বকনিষ্ঠ সন্তান বাবা-মা এমনকি ভাই-বোনদের কাছেও বেশি আদরের হয়। আদুরীও ছিল তাই। জন্মের পর থেকেই অভাবের সংসারে আদুরী আধাপেটা খেয়ে বড় হতে থাকে। আট বছর বয়সে আদুরী হারায় তার বাবাকে । সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারানোর পর আদুরীদের সংসারে নেমে আসে অবর্নণীয় দুর্ভোগ। জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার লড়াইয়ে জয়ী হতে আদুরীর মা গ্রামে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন।
 
কিন্তু এত বড় সংসারে সবার মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের সংস্থান করা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। অসহায় মা অন্য কোনো উপায় না দেখে একান্ত বাধ্য হয়েই নয় বছর বয়সের আদরের ধন আদুরীকে ইট-পাথরের যান্ত্রিক শহর রাজধানী ঢাকাতে মাত্র ৫০০ (পাঁচশত) টাকা মাসিক বেতনে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে পাঠান। যে বয়সে আদুরীর স্কুলে যাওয়ার কথা। গ্রামের সমবয়সী ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে হেসে-খেলে বেড়ানোর কথা। সে বয়সে তাকে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে হয়েছে।
 
বাস্তবতা কি নির্মম! আদুরী যে বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ নেয়, ওই বাসার গৃহকর্ত্রী তার বাবা-মায়ের দেওয়া নামটিও পাল্টে ফেলে। আদুরীর নতুন নাম হয় মণিকা। নাম-পরিচয় নিয়ে হয়তো মাথাব্যথাও ছিল না আদুরীর। লক্ষ্য ছিল খেয়ে-পড়ে বেঁচে থাকা। বিনিময়ে চাই শুধু তিন বেলা এক মুঠো ভাতের নিশ্চয়তা।
 
হয়তো একটু পঁচা-বাসি খাবার দিত বাড়িওয়ালী। তার বিনিময়ে অমানুষিক পরিশ্রম করতে হতো আদুরীকে। সে দিকেও ভ্রুক্ষেপ ছিল না আদুরীর, না ছিল প্রতিবাদ। রবী ঠাকুরের সেই বিখ্যাত ‘পুরনো ভৃত্য’ কবিতার কেষ্টার মতোই সে যত পায় বেত, না পায় বেতন, তবু না চেতন মানে। গৃহকর্ত্রী আদুরীকে বিভিন্নভাবে দিনের পর দিন অমানুষিক নির্যাতন করত। পান থেকে চুন খসলেই চর-থাপ্পরের পাশাপাশি চলত নানা রকম নির্যাতন। গরম ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা, ব্লেড দিযে গা কেটে দেওয়া প্রভৃতিও বাদ যেত না। অনেক অত্যাচারে নিষ্পেষিত আদুরীকে একদিন মৃত ভেবে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে আসে গৃহকর্ত্রী।
 
২০১৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আদুরীকে অর্ধমৃত অবস্থায় পল্লবীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় আদুরীর শরীরের বিভিন্ন অংশে কাটা দাগসহ অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। পুলিশের সহায়তায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পরদিন আদুরীর জ্ঞান ফিরে। জ্ঞান ফেরার পর আদুরী নিজেই তার নাম, কোন বাসায় কাজ করতো, কীভাবে গৃহকর্ত্রী ব্লেড দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাকে যন্ত্রণা দিয়েছে তার বর্ণনা দেয়। অপরদিকে তার বোনও তাকে মাঝেমাঝেই তার গলা টিপে ধরত বলে অভিযোগ করে আদুরী।
 
ঢাকা মহানগর পুলিশ গৃহকর্ত্রীকে গ্রেফতার করার পর জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্ত্রী জানান, আদুরীকে মাঝেমধ্যে দুয়েকটি চড়-থাপ্পড় দিতেন। কখনও ব্লেড দিয়ে জখম, ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা বা অন্য কোনোভাবে অত্যাচার করেননি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আরো জানান, দুই মাস আগে আদুরী তাদের বাসা থেকে পালিয়ে যায়। এরপর আর তিনি তার খোঁজ নেননি। এমনকি তিনি পুলিশকেও জানাননি যে আদুরী পালিয়ে গেছে। গৃহকর্ত্রী পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, আদুরী চার হাজার টাকা, সোনার দুল ও হাতের চুড়ি চুরি করে বাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরে পত্রিকায় দেখেন আদুরীকে ময়লার ডাস্টবিনে পাওয়া গেছে। পরে সমাজের নানা বিবেকমান মানুষের সহায়তায় সুস্থ্য হয়ে মায়ের কোলে ফিরে যায় আদুরী। কিন্তু তার মনে চিরস্থায়ী দাগ ফেলে মানুষের ওপর মানুষের অমানুষিক বর্বরতা।
 
আদুরীর বেদনায় সমব্যথী হয়েছেন লেখক। তার লেখায় মানবিক মূল্যবোধ ও অবক্ষয়ের করুণ গাথা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। এ গানের প্রতিটি শব্দ যেন আদুরীর দুঃখে ডুকরে ডুকরে কাঁদে। সমাজসচেতন কবি, গীতিকার ও সুরকার মাহবুবুল এ খালিদ তাঁর আদুরী গানটিতে ঘুণেধরা সমাজের একটি অন্ধকার দিককে মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। গানের মাধ্যমে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন অসহ্য অসঙ্গতির বাস্তব চিত্র, সভ্য মানুষের অসভ্যতা।
 
সব মিলিয়ে মাহবুবুল এ খালিদের গানটি হয়ে উঠেছে বর্তমান সমাজের ও সময়ের অসামান্য দলিল।
Aduri was the most affectionate daughter of her parents. Her mother affectionately named her Aduri. She was being raised up with unfeigned love and care of her family like other children.
 
But poverty made obstacles to that. The little girl of rural Kourakhali village in Patuakhali district was forced to come to Dhaka in search of a little comfort and happiness.
 
But the bright shining Dhaka turned into an illusion to her. The dream of a handful living vanished away for the hard reality and brutal tortures of the human like inhuman.   
 
Back to a day of 2002, Shafia Begum gave birth of her tenth child. There was no shortage of affection for the newborn though her parents had many other children. It is because the love and affection of parents for the children never withers away. Generally the youngest child of a family gets much love and affection from its parents as well as other siblings. And Aduri was not an exception of that. Yet being born of a poor family, Aduri was raised up without having sufficient food. She lost her father at the age of eight. Severe woe fell on them as they lost the only breadwinner of the family. Aduri’s mother started doing the work of digging soil to earn their livelihood.
 
But it was not an easy task for her to earn the living of such a big family. Finding no other way, the helpless mother sent her affectionate 9-year old Aduri to work as a domestic help in Dhaka, the mechanical city of brick and stone, only for a monthly salary of Tk. 500. Aduri had to take the profession of a household worker at the age when she would have been gone to school or played with other children.
 
How cruel the reality was! The employer of Aduri, for whom she was working as a domestic help, changed the name, affectionately given by her parents. They renamed her Monika. Aduri might have no notion headache about her name and whereabouts. She was only concerned about earning a handful living and assurance of having little food three times a day.    
 
She might have been served with rotten foods by her employer. She had to work very hard for that. She never minded for working hard or did not complain for that. Like the servant ‘Kesta’ of the famous poem ‘Puratan Bhrettya – Ancient Servant’ of Rabindranath Tagore, she bore all the pain silently. Her employer brutally tortured her day after day. She had to bear various tortures including slap and hits for even a little mistake. She was also got burnt with hot iron and slashes of blade all over her body. One day, assuming her dead over severe wounds inflicted by physical abuses, her employer dumped Aduri on a pile of garbage.
 
Aduri was rescued to skin and bones from a dustbin in the capital’s DOHS Pallabi on September 23, 2013. She was found senseless, battered and bruised and with marks of blade slashes and burnt injures all over her body. With the assistance of police, Aduri was admitted to the One-stop Crisis Centre of Dhaka Medical College and Hospital. A day later, she regained her sense. She then uttered her name, gave the address of her employer and the described of the tortures she bore. Aduri also alleged that the employer’s sister got her strangled several times.
 
Dhaka Metropolitan Police arrested the employer of Aduri. The employer, during police interrogation, admitted that she used to slap Aduri more than a few times but denied the allegation of torturing her with hot iron burnt or blade slashes. She also informed the police that Aduri fled off her house two months back. She alleged that the domestic help stole Tk. 4000 cash, gold ring and bangles. She came to know from the newspaper that Aduri was found on a dustbin.
 
Later, getting treatment with the assistance from the conscience people of the society, a healthier Aduri went back home to her mother. However, the brutal tortures of a human on another human being cast a deep permanent impact on her mind.
 
The writer has been moved with compassion for the woes of Aduri. He tried to sketch the tragic story of perverted human values and degradation. Every word of the song seems shedding tears for the woes of Aduri. Socially conscious poet, lyricist and composer Mahbubul A Khalid, through the song Aduri, has exposed the dark side of a degraded society before the eyes of all human being. Through the song, he made all understand the true picture of the unbearable irregularities of the society and the savagery of civilized men with positive proof.  
 
Altogether, the song of Mahbubul A Khalid turned into an outstanding document of the present time and society.
  • All

Write a review